Thursday, 16 October 2014

রঙ (COLOUR) - in Bengali

এই লেখাটি পপুলার সায়েন্স সিরিজের প্রথম প্রচেষ্টা। এই ব্লগটি তাদের জন্য - যারা বিজ্ঞান একদমই পড়েনি বা অনেক আগে খুব অল্প পড়েছে বা ভুলে গেছে। তার জন্য আমরা এতে বিজ্ঞানের থিওরি বা ক্যাল্কুলেশন নিয়ে বেশী কচকচি করিনি।
ভাবতে বা শুনতে বোকা বোকা লাগলেও বলেই ফেলি, রঙ মানুষকে রঙিন করে তোলে। একটু ভেবে দেখুন, রঙ ছাড়া জীবনের কথা- কল্পনাই করা যায় না। কোথায় যেন পড়েছিলাম, কুকুর (এবং অন্য কিছু জীবজন্তু) দুনিয়াকে সাদা- কালোয় দেখে। কাজেই রঙ বিনা জীবন কুকুরের জীবন। কিন্তু রঙ ব্যাপারটা কি সেটা বোঝার চেষ্টা করা যাক।
১)   যখন আমরা কোন বস্তুর (জীবিত বা জড়) বর্ণনা দেওয়ার চেষ্টা করি,আকার এবং বিস্তারের (shape & size) সাথে সাথে রঙ একটি খুব প্রয়োজনীয় ফিচার। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা- একটি বস্তুর রঙ কোনটি বা কোন-কোনটি হবে বা হবেনা, সেটা কিসের উপর নির্ভর করবে। আসুন একসঙ্গে একটু বোঝার চেষ্টা করা যাক।
২) আমরা রঙ দেখি। কিন্তু দেখা মানেটা কি ? আলো থাকলে আমরা দেখতে পাই। অন্ধকারে আমরা দেখতে পাই না (স্বপ্ন ছাড়া)। বিজ্ঞানের ভাষায়, যখন আলো কোন বস্তুর উপর পড়ে, তো সেটি প্রতিফলন হয়, বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সেটি বিক্ষিপ্ত হয়। তারপর সেই বিক্ষিপ্ত আলো যখন আমাদের চোখে পড়ে, সেটা আমাদের মস্তিস্কে একটি অনুভুতি তৈরি করে- সেটাকে আমরা “দেখা” বলি। 
৩) তাহলে বোঝা গেল যে রঙের জন্য আলো একটি মূল উপাদান। আমাদের পৃথিবীতে আলোর মূল উৎস সূর্য- বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সেটি আমরা সরাসরি পাই। আবার কখনো আলো আসে কৃত্রিম ব্যবস্থা থেকে – যেটি সূর্যেরই আলোর শক্তি নানা ভাবে ধরে রাখা জিনিসের থেকে।
৪) যেহেতু আমরা রামধনু ব্যাপারটা দেখেছি – তার থেকে আমরা জানি যে সাদা আলো ভেঙ্গে যায় সাতটি রঙে – যেটা আমরা বেনীআসহকলা (বা ইংরেজি তে VIBGYOR) হিসাবে মনে রাখি। যার মানে, বেগুনী, নীল, আকাশী, সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। অন্য দিক থেকে দেখলে, সাদা রঙ হচ্ছে সাতটি রঙের মিশ্রণ আর কালো রঙ কোন রঙই না থাকা। কিন্তু মাঝের রঙগুলি? কি করে স্থির হবে একটি বস্তু সবুজ, নীল, গোলাপি বা রক্তবর্ণ হবে? একটু ধৈর্য ধরে আমরা এগোই।
৫) সেই উত্তর পাওয়ার জন্য আমরা একটু ২ নম্বর পয়েন্টে ফেরত যাই, যেখানে আমরা প্রতিফলনের কথা বলেছিলাম। আসল সত্য টা হচ্ছে, আলো বস্তুর উপর পড়লে কিছু প্রতিফলন হয় বটে, কিন্তু কিছু শোষণও হয়। আর একটি জিনিসের রঙ বলতে আমরা সেই জিনিসটির একটি চরিত্রের (property) উপর নির্ভর করি, যে সেটি কোন (বা কোন-কোন) রঙ কতটা পরিমাণে প্রতিফলন করবে, আর কোন (বা কোন-কোন) রঙ কতটা পরিমাণে শোষণ করবে। উদাহরণ হিসাবে এই মুহূর্তে ধরে নেওয়া যাক, আলোর উৎস টা সাদা, আর একটি লাল রঙের বস্তু আছে, তার মানে সেটি লাল ছাড়া বাকি সব রঙকে শোষণ করবে আর লাল রঙকে প্রতিফলন বা বর্জন করবে। শুনতে কেমন লাগে না, একটি জিনিস যে রঙটিকে ত্যাগ করে, তাই দিয়েই তার পরিচয় হয়।
  অর্থাৎ একটি সাদা ফুল সূর্যের সব আলো ফেরত দেয়, কিছুই নিজের কাছে রাখেনা। সেই ফুল টি আবার যদি আপনার হাল্কা নীল রঙের নাইট ল্যাম্পের আলোয় দেখা হয়, সেটিকে নীল রঙ মনে হবে। আবার সেই আলোয় যদি একটি লাল ফুল দেখেন, সেটি দেখাবে কালো।
রঙের খেলা চলল অনেকক্ষণ। আজকাল কম্পিউটারের দৌলতে হাজার হাজার রঙের সৃষ্টি করা যায়। সূর্যদেবের কাজ কর্ম কিছু কমেছে। 

No comments:

Post a Comment